জমি কেনার নেশা ছিল ডিবি পুলিশের এসআই মহিউদ্দিনের। এ কাজে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে তাকেই পড়তে হয় মামলায়। শুধু মামলা দেয়াই নয়, কাউকে দেয়া হয়েছে ক্রসফায়ারের হুমকিও। মঙ্গলবার সরেজমিনে বরিশাল নগরীর সাগরদি এলাকায় ঘুরে স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
সাগরদী এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, সাগরদি ও রুপাতলী এলাকার বিভিন্ন স্থানে মহিউদ্দিনের কয়েক শতক সম্পত্তি রয়েছে। তার এসব জমির ভেতরে মালিকানার চেয়ে বেশিরভাগ সরকারি খাস জমি রয়েছে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তদন্ত করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
হারিছুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বরিশাল পুলিশ কমিশনারের কাছে করা আবেদন সূত্রে জানা যায় ,রুপাতলী পল্লীবিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকায় ৩৩ শতাংশ, উকিল বাড়ি সড়কে রফিক মেম্বারের বাড়ির পেছনে ৬ শতাংশ, র্যাব-৮ অফিসের পেছনে ৩০ শতাংশ, রুপাতলী জাগুয়া স্কুলের পেছনে ১০ শতাংশ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয দ্বিতীয় ব্রিজের পরে ৫০ শতাংশ জমি রয়েছে এসআই মহিউদ্দিনের।
শের-ই-বাংলা সড়ক এলাকার বাসিন্দা ইট-বালু ব্যবসায়ী মো. হারিছুল ইসলাম বলেন, আমার পৈতৃক ওয়ারিশ এর ৪ শতাংশ জমির ওয়ারিশদের কাছ থেকে পাওয়ার নেই। সেই জমির উপর এসআই মহিউদ্দিনের নজর পড়ে। পরবর্তীতে আমার জমি দখলের পায়তারা চালানোসহ আমাকে মামলায় জড়ানোর ষড়যন্ত্র শুরু করে সে । ২০১৯ সালের ২২ জুলাই বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আমাকে বলে, তোকে মেরে ফেলব, তুই ওই জমির কাছে যাবি না। আমি মহিউদ্দিন তোকে মেরে ফেললে কিছুই হবে না, বলবো এনকাউন্টারে মারা গেছিস তুই। তখন আমার চিৎকারে বাড়ির লোকজন ছুটে আসলে গালিগালাজ করতে করতে মহিউদ্দিন চলে যায়।
তিনি আরো বলেন, হীরু তালুকদার নামে এক ব্যক্তি মাদকসহ শের-ই-বাংলা সড়ক থেকে আটক হয়। তিন দিন পর ওই মামলায় পলাতক আসামি দেখিয়ে আমাকে মহিউদ্দিন তার বাসায় ডেকে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। মহিউদ্দিনের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে কারাভোগ করতে হয়েছে আমাকে। আদালতের মাধ্যমে জামিনে বের হয়ে এসআই মহিউদ্দিনের মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা ও হুমকি এবং মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেয়া থেকে পরিত্রাণ পেতে গত বছরের ১৩ ফেব্রয়ারি বরিশাল পুলিশ কমিশনার বরাবরে লিখিত আবেদন করা হয়। পরে তদন্ত হলে এসআই মহিউদ্দিন তা ম্যানেজ করে ফেলে ।
এসআই মহিউদ্দিনের হয়রানির শিকার একই এলাকার স্কুল শিক্ষিকার ছেলে রুবেল বলেন, শের-ই-বাংলা সড়কে দোকান চালিয়ে সুন্দর জীবন পরিচালনা করতে চেয়েছিলাম । কিন্তু এসআই মহিউদ্দিন তা করতে দেয়নি । ব্যবসা চালাতে হলে ১ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। টাকা না দিলে মাদক মামলায় চালান দেয়া হবে, এমন হুমকি আমাকে দিয়েছে এসআই মহিউদ্দিন। তার হুমকিতে ব্যবসা করা হয়নি আমার।
এদিকে হারিছুল ইসলামের ওই লিখিত আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, শের-ই-বাংলা সড়কের বাসিন্দা ইব্রাহীম খন্দকার, জাহিদ, রুপাতলী সোনারগাও এলাকার রফিক মীরা, মুনসুর মিরা, মনির মীরা, রুপাতলীর হাউজিংয়ের ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর হোসেন, চান্দুর মার্কেটের জালাল হোসেন (সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা)কে নানাভাবে নির্যাতন ও হয়রানি করে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।