চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার ওসিসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা না হলে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত হোসেন।
বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মীদের সংঘর্ষের পর কোতয়ালি থানার ওসি ও বায়েজিদ থানার এক এসআইকে প্রত্যাহারের জন্য নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করা হয়, পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ।
বুধবার রাত ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের একটি মিছিল বিএনপির কার্যালয়ের সামনে যাওয়ার সময় ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিলটিকে ধাওয়া করে।
পরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাজীর দেউড়িতে জড়ো হলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরআগে বিকেলে বাকলিয়ায় দুইপক্ষের সংঘর্ষে আহত হয় ৪ জন।
এ ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে নির্বাচন কমিশনে ৮টি দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন বিএনপির প্রার্থী। দাবি করা হয়, কোতয়ালী থানার ওসি নিজামউদ্দিন ও বায়েজিদ থানার এসআই জামালকে প্রত্যাহার করা না হলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন তিনি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নির্দিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা উদ্দেশ্য প্রণেদিতভাবে গায়েবি মামলা করার জন্য তারা পায়তারা করছে। প্রশাসন যদি নির্বাচনী পরিবেশ ফিরিয়ে না আনতে পারে আমরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবো।
ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে ছাড়া দেয়া হবে না বলে জানান নির্বাচন কর্মকর্তা। রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকার কারণে একটু উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কিন্তু উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোন সাংঘর্ষিক ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে আমরা তৎপর আছি। আমরা সবকিছু নিবিড়ভাবেই মনিটরিং করছি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অভিযোগ সরকার পুলিশ দিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করছে।
তবে বিএনপির এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন জানিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, জনগণ তাদের প্রত্যাখান করবে।