খল চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক হৃদয় জয় করেছেন তিনি। অভিনয়ই ছিলো তার জীবন। চিত্রনাট্য, সংলাপ রচনা থেকে শুরু করে নাটকে নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। অভিনয়শিল্পে বিশিষ্টজন এটিএম শামসুজ্জামান।
১৯৪১ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এটিএম শামসুজ্জামান। পৈত্রিক বাড়ি লক্ষ্মীপুরে হলেও বসবাস করতেন পুরান ঢাকার দেবেন্দ্র নাথ দাস লেনে।
১৯৬১ সালে ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালনার মাধ্যমে রূপালী জগতে পদাপর্ণ তার। প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের জন্য। সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন খান আতাউর রহমান, কাজী জহির, সুভাষ দত্তদের মত পরিচালদের সঙ্গে। ২০০৯ সালে পরিচালনা করেন ‘এবাদত’ নামের চলচ্চিত্র।
তবে, পর্দার সামনে তার আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। শুরুতে টিভি নাটক ও মঞ্চে অভিনয় করলেও চলচ্চিত্রে নিয়মিত হন ৭০ দশকে।
তার অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আমজাদ হোসেনের নয়নমণি চলচ্চিত্রটি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। খ্যাতির চূড়ায় থেকে অভিনয় করেছেন অশিক্ষিত, গোলাপী এখন ট্রেনে, পদ্মা মেঘনা যমুনার মত চলচ্চিত্রে।
১৯৮৭ সালে কাজী হায়াতের ‘দায়ী কে?’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে জিতে নেন শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এরপর আরো চারবার এই পুরষ্কারে ভূষিত হন তিনি।
গুনী এই অভিনেতা শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক। সবশেষ অভিনয় করেছেন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু পরিচালিত ‘আলফা’ চলচ্চিত্রে।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন তিনি। ফুসফুসে সংক্রমণ হওয়ায় ৩০ এপ্রিল লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয় তাকে।