সারা বিশ্বের ১৯১ টি দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থায় অন্তর্ভূক্তির জন্য বহুভাষিকতাকে উৎসাহ প্রদান- এই বিষয়কে এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করেছে ইউনেস্কো। সংস্থার মহাপরিচালক এবছর মাতৃভাষায় শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ।
চর্চা আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে গেছে বহু ভাষা। ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যেই সংস্থা, সেই ইউনেস্কোর মহাপরিচালক তাঁর বাণীতে তাই মাতৃভাষা চর্চার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বললেন, দৈনন্দিন জীবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাতৃভাষার ব্যবহার আরো বাড়াতে হবে। বিশ্বের ৪০ শতাংশ মানুষ মাতৃভাষায় শিক্ষা নিতে পারে না উল্লেখ করে অড্রে আজোলে জানান, কোন জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য মাতৃভাষা জানা জরুরি। এ বছর মাতৃভাষায় শিশু শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে বলেও জানান তিনি ।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও। এ উপলক্ষে সেজে ওঠে বিশ্বভারতীর বাংলাদেশ ভবন। সকালে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি’ গাইতে গাইতে পদযাত্রা করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় উপস্থিত উপাচার্যসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরে শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ।
যে দেশের শাসক শ্রেণীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে বাঙালি ছিনিয়ে এনেছিল ভাষার অধিকার, সেই পাকিস্তানেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। সাহিত্য উৎসব, সভা সেমিনারের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠবারের মত মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরছে দেশটির বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা। এছাড়া পাকিস্তানের বিলুপ্তপ্রায় বেশ কয়েকটি ভাষা সুরক্ষায় অবদান রাখায় কয়েকজনকে সম্মাননা দেয়া হবে।
মাতৃভাষা নেই এমন দেশও পালন করছে দিবসটি। এর মধ্যে অন্যতম কানাডা। সব দেশের ভাষা-সংস্কৃতি ধারণের উদাহরণ আছে দেশটির।
বিশ্বে ভাষা আছে ৭ হাজার ১১৭টি। সবচেয়ে বেশি মানুষ কথা বলেন ইংরেজিতে। দ্বিতীয় অবস্থানে মান্দারিন -কথা বলেন একশ ১১ কোটি ১৭ লাখ । আর তৃতীয় অবস্থানে হিন্দি- ব্যবহার করে সাড়ে ৬১ কোটি। আর সপ্তম অবস্থানে থাকা বাংলায়, কথা বলেন সাড়ে ২৬ কোটিরও বেশি মানুষ। তবে হারিয়ে যাওয়ার মুখে আছে বিশ্বের ৪৩ ভাগ ভাষা। এরই মধ্যে বিলুপ্ত ১১০টি।