মিতু হত্যা: আদালতে বিগড়ে গেলেন বাবুল আক্তার

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে স্ত্রী মিতু হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেবেন, এনিয়ে অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই।

সোমবার (১৭ মে) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে টানা ৫ ঘণ্টা ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষে অবস্থানের পর বিগড়ে যায় সাবেক এ পুলিশ কর্মকর্তা। সিএমপির সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মো. শাহাবুদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিন, সকাল ১০টার পর পরই তাকে আদালতে এনে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার জাহানের খাস কামরায়।

এরপর দুপুর ২টা পর্যন্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বাবুল আক্তার অস্বীকৃতি জানালে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয় আরও এক ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে নিজ সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় বিকেল ৩টায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার জাহান। পরে পুলিশের কড়া পাহারায় তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্ত্রী মিতু হত্যার পর বাবুল আকতার নিজে বাদী হয়ে দায়ের করা হত্যা মামলায় ১২ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। একই দিন বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে দায়েরকৃত নতুন মামলায় পিবিআই তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে যায়।

পিবিআই কর্মকর্তারা জামিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল আক্তার স্বীকার করে, ভারতীয় বংশোদ্ভূত হল্যান্ডের নাগরিক গায়ত্রী অমর সিংয়ের সঙ্গে প্রেমের আগে থেকেই স্ত্রী মিতুর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। বিয়ের পর থেকেই এই বিরোধ শুরু হয়। এমনকি কিলিং মিশনে মুসাকে ৩ লাখ টাকা দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন বাবুল আক্তার।

তবে বাবুল আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দিলেও হতাশ নন পিবিআই কর্মকর্তারা। আবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলে জানান চট্টগ্রামের পিবিআই পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে নগরীর জিইসি মোড়ে দুর্বৃত্তদের গুলি এবং ছুরিকাঘাতে খুন হন তৎকালীন পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। প্রথমে এটিকে জঙ্গীদের হামলা বলে ধরা হয়েছিল। পরবর্তীকালে অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে বাবুল আকতারের নির্দেশে তার সোর্স মুসা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

আরো পড়ুন