বরিশালে চাঁদাবাজি মামলায় আ’লীগ নেতাকে গ্রেফতার করায় থানা ঘেরাও

বরিশালে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেফতার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে মহানগর আওয়ামী লীগের একাংশ।

সোমবার বেলা ১২টা থেকে দুপুর সোয়া ১টা পর্যন্ত নগরীর এয়ারপোর্ট থানা ঘেরাও শেষে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে নেতাকর্মীরা। তাকে মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে নগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে সোমবার সকালে বিমানবন্দর থানা পুলিশ আটক ওই নেতাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। গ্রেফতার আসামির নাম রিপন বিশ্বাস। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের ২৯নং ওয়ার্ড কমিটির সদস্য ও কাশিপুরের ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা।

জানা গেছে, নগরীর কাশিপুর বাজার থেকে চলাচলরত অবৈধ ইজিবাইক চালকদের কাছ থেকে একটি চক্র চাঁদা চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় ইজিবাইক সংগ্রাম কমিটির সদস্যরা। এতে ওই সংগঠনের সদস্যদের ওপর হামলা এবং ইজিবাইক ভাংচুর করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে ৩০ মার্চ একটি মামলা দায়ের করেন সংগঠনের নেতা গোলাম রসুল।

মামলায় গ্রেফতার রিপন বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে ছয়জনকে নামধারী ও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ওই মামলায় তদন্ত শেষে প্রধান আসামি রিপনকে রোববার রাতে কাশিপুরের ভূঁইয়া বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তাকে গ্রেফতারে মহানগর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সোমবার বেলা ১২টার দিকে কাশিপুরস্থ বিমানবন্দর থানা ঘেরাও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। পরে সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনেও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তারা। এ সময় রিপনকে মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু বলেন, সরকার বিরোধী একটি চক্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। রিপন বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা তারই একটি অংশ মাত্র। তাকে মুক্তি না দেওয়া হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন এই নেতা।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানার ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই মামলায় তদন্ত শেষে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা শুধুমাত্র আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছি।

থানা ঘেরাওয়ের কথা অস্বীকার করে ওসি বলেন, দলীয় লোকজন এসেছিলেন। তারা আমার সঙ্গে কথা বলে চলে গেছেন। রিপন বিশ্বাসকে মুক্তি দেওয়া না দেওয়া আদালতের ব্যাপার।

আরো পড়ুন