মোংলারয় ৩৪ নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত ২৩ জন

সীমান্ত জেলাগুলোতে ক্রমেই বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুও। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বাগেরহাটের মোংলাতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪টি নমুনা পরীক্ষায় ২৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার প্রায় ৬৮ শতাংশ। গত মঙ্গলবার শনাক্তের এই হার ছিল ৬১ শতাংশ। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় ১৮২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৫৯.৩৮ শতাংশ। মঙ্গলবার শনাক্তের হার ছিলে ৫৫.০৮ শতাংশ।

বাগেরহাট ও মোংলা প্রতিনিধি জানান, সংক্রমণ ঠেকাতে বাগেরহাটের মোংলা পোর্ট পৌর এলাকায় আরো সাত দিনের জন্য কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার রাত ১২টার পর থেকে শুরু হয়ে আগামী ১৬ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত এই বিধি-নিষেধ চলবে। তবে বিধি-নিষেধের মধ্যেও স্বাভাবিক রয়েছে মোংলা বন্দরের সব কার্যক্রম। বাগেরহাট স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পুরো বাগেরহাট জেলায় ৫৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে মোংলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি সেখানে কোস্ট গার্ড সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ করতে জেলায় গণপরিবহন ও হাট-বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে অর্থদণ্ড দেওয়া হচ্ছে।

মোংলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার জানান, জরুরি সেবা ছাড়া শহরে কোনো যানবাহন চলবে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস জানান, মোংলায় গত এপ্রিল থেকে গতকাল পর্যন্ত ৪৮১টি নমুনা পরীক্ষায় ২৮২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গড় শনাক্তের হার ৫৮ শাতাংশ।

এদিকে সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় করোনা সংক্রমণের হার চূড়ায় রয়েছে। কঠোর বিধি-নিষেধের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়তে থাকায় প্রশাসন আরো কঠোর হয়েছে। জেলা, উপজেলা ও পৌর এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রশাসন কাড়া অবস্থানে থাকলেও গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারগুলোর চিত্র উল্টো। সেখানে প্রশাসনের কোনো তৎপরতাই গত পাঁচ দিনে চোখে পড়েনি। সব কিছু চলছে ঠিক আগের মতোই।

সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১০৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জন করোনা পজিটিভ। সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। এদিকে করোনার উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরো চারজন মারা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে করোনার লাগাম টানতে প্রশাসনকে কিছুটা কঠোর হতে দেখা গেছে। সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের বেপরোয়া আচরণ রুখে দেওয়া হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান।

এদিকে যশোর প্রতিনিধি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে নতুন করে ১৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৯ শতাংশ। গতকাল শনাক্তের হার ছিল ৪২ শতাংশ। একজন করোনা রোগী মারাও গেছে। এদিকে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আজ বুধবার মধ্যরাত থেকে যশোরের দুটি পৌর এলাকায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে যশোর করোনার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আগেই জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটি। গেল মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই যশোরে করোনা শনাক্তের হার বাড়তে থাকে। জুনের শুরু থেকে প্রতিদিনই বাড়ছে শনাক্তের হার।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানান, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসন। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার মধ্যরাত থেকে যশোর পৌরসভা ও নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোরের দুটি পৌরসভায় লকডাউনের প্রথম দিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ও ওষুধ ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় টহল দিচ্ছে পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের দল। নাটোরের সিভিল সার্জন কাজী মিজানুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। আক্রান্তের হার ৫০ শতাংশ।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁ পৌর এলাকা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় কিছু কিছু শর্ত শিথিল করে চলমান কঠোর বিধি-নিষেধের মেয়াদ আরো সাত দিন বাড়ানো হয়েছে। এই বিধি-নিষেধ আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত চলবে। জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশীদ গতকাল স্থানীয় সার্কিট হাউস মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন। এদিকে নওগাঁয় গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৫২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৩টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ জনের শরীরে। শনাক্তের হার ১৮.০৭ শতাংশ।

এদিকে রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত ও মৃত্যু আগের দিনের চেয়ে কমেছে। তবে রাজশাহী জেলায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আগের যেকোনো দিনের চেয়ে বেশি হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ৬৪১ জনের। এর মধ্যে শুধু রাজশাহী জেলায় শনাক্ত হয়েছে ৩৫৩ জন। এক দিনে জেলায় এটিই সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের আট জেলায় করোনায় আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।

আরো পড়ুন