রাজশাহীতে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৪ জনের মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ফলে এক দিনের ব্যবধানে মৃত্যু কমেছে রাজশাহীতে। এর আগে গত ৪ জুন সর্বোচ্চ ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস আজ শনিবার সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস বলেন, গেল ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে মৃত ৪ জনের মধ্যে ১ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। অন্য ৩ জন মারা গেছেন উপসর্গ নিয়ে। করোনা পজিটিভ হয়ে মারা যাওয়া ১ জনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এছাড়া করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৩ জন রোগীর বাড়ি রাজশাহীতে।
ডা. সাইফুল ফেরদৌস আরও বলেন, এই ১২ দিনে (১ জুন সকাল ৬টা থেকে ১২ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত) রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ১১১ জন। এর মধ্যে ৬৪ জনই মারা গেছেন করোনা শনাক্ত হওয়ার পর। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে মারা যান।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন ২৫ জন। আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন ২৮৯ জন। অথচ শয্যা সংখ্যা ২৭১টি। অর্থাৎ ধারণ ক্ষমতার বেশি সংখ্যক রোগী বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহীর ১২২, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১২০, নাটোরের ১৪, নওগাঁ ২৪, পাবনার ৫, কুষ্টিয়ার ১ জন। এছাড়া হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি আছেন আরও ১৮ জন।

অপরদিকে, করোনার ‘নতুন হটস্পট’ রাজশাহীতে একদিনের ব্যবধানে ফের বেড়েছে সংক্রমণের হার। বৃহস্পতিবার দুইটি ল্যাবে রাজশাহীর ৩৬৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১৪৩ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। গত রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের দুইটি পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার পর এই ফল আসে। পরীক্ষা অনুযায়ী সংক্রমণের হার ৩৯ দশমিক ৭ শতাংশ।

রাজশাহী মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামিম ইয়াজদানী। এদিন সকাল ১১টায় মেডিকেল কলেজের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে সার্বিক বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে মোট ২৮৯ জন ভর্তি আছেন, যা গতকালের চেয়ে কম। ৩৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন, নতুন ভর্তি হয়েছেন মোট ২৫ জন।

করোনা রোগীদের সেবার জন্য মোট ২৭১টি শয্যার সবগুলোই সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সংযুক্ত। এর বাইরেও অক্সিজেন সহ শয্যা দেবার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি। এদিকে গত বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া লকডাউন আগামী ১৫ দিন ঠিকমতো মেনে চললে সংক্রমণের হার ও মৃত্যু হার কমে আসবে বলেও আশা করেন পরিচালক।

আরো পড়ুন