শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণে ‘জাতীয় মানদণ্ড আইন’ প্রণয়নের দাবি বিএনপির

কারখানায় দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে ‘জাতীয় মানদণ্ড আইন’ প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে এই দাবি জানান স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা ঘটনা ঘটবে, আমরা কয়েকদিন হৈচৈ করব তারপর সবাই আবার চুপ করে যাব। সেটা না, এটার একটা স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা প্রস্তাব করেছি যে, একটা জাতীয় মানদণ্ড আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার যে, এই ধরনের দুর্ঘটনায় শ্রমিকরা কী ক্ষতিপূরণ পাবেন। আহতরা কী ক্ষতিপূরণ পাবেন, নিহতরা কী ক্ষতিপূরণ পাবেন। মালিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা হবে এবং যারা এটার পরিদর্শনের দায়িত্বে তাদের কোনো অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা হবে- সব কিছু তার মধ্যে থাকা দরকার। যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও কনভেনশন ১২১, তার প্রাসঙ্গিক রেকমেন্ডেশন, ১৯৫৮ সালের মারাত্মক দুর্ঘটনা আইন এবং রানা প্লাজার (সাভার) দৃষ্টান্ত অনুযায়ী এই জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন করার জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে, মানুষ কাজ করতে যায় জীবন বাঁচানোর জন্য, জীবিকা অর্জনের জন্য। সেখানে কাজ করতে যেয়ে যদি মানুষকে অকালে জীবন দিতে হয় তাহলে তো সেটা কারখানা না, ওটা একটা মৃত্যুকুপ। এটা তো কোনো রাষ্ট্র মেনে নিতে পারে না, মানা উচিত না। আমরা আশা করব রাষ্ট্রে সে দায়িত্ব পালন করবে।’

হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী হাসেম ফুড কোম্পানির ৯৯৩ কোটি টাকাসহ পুরো সজীব গ্রুপের ব্যাংক ঋণের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। অথচ এই কারখানার শ্রমিকেরা গত দুই মাস ধরে বেতন ও ওভারটাইম ভাতা না পাওয়ায় বিক্ষোভ করেছেন। পুলিশের মধ্যস্থতায় গত ৫ তারিখ আংশিক পাওনা পরিশোধের কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই অবস্থায় শ্রমিকরা অকালে নিহত হলেন এবং গতকাল পত্রিকায় এসেছে তাদের স্বজনেরা খালি হাতে ফিরে গেছেন। এমন অমানবিক ঘটনা নিন্দনীয় এবং বিচারযোগ্য অপরাধ।’

রূপগঞ্জের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে গিয়ে কর্মহীন শ্রমিকদের কাজের দাবি জানাতে দেখেছি। আমরা মনে করি, দীর্ঘদিন বেতনহীন এসব শ্রমিকদের অবিলম্বে প্রাপ্য পরিশোধ করা জরুরি। একই সঙ্গে আমরা চাই, সজীব গ্রুপের প্রত্যেক কারখানা যথাযথ পরিদর্শন করে কর্মোপযোগী করে যতো দ্রুত সম্ভব শ্রমিকদের কাজে ফেরার পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার। যাতে তারা জীবিকা অর্জন করতে পারে।’

ওই কারখানার অবস্থা তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘জাতীয় ভবন নীতিমালা অনুযায়ী এই আয়তনের ভবনে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচটি সিঁড়ি থাকা জরুরি ছিল। অথচ ছিল মাত্র ২টি। পুড়ে নিহত হওয়া ৪৯টি লাশই পাওয়া গেছে ভবনের চতুর্থ তলায়। সেখানে কর্মরতদের কাছে জানা যায় যে, চতুর্থ তলার গেট বন্ধ ছিল বলে কেউ বের হতে পারেনি।’

আরো পড়ুন