রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দেবে না সরকার : মূলধন ঘাটতি

অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণের করের টাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ‘ক্যাপিটাল ইনজেকশন’র মতো প্রথা দীর্ঘদিন দেশে প্রচলিত ছিল

দেশের ব্যাংকিংখাতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের কারণে সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতি রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় নতুন করে পুঁজি সরবরাহ করে ঘাটতি মেটানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার কথা জানিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৯ জুন) ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের সময় এ বিষয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণের করের টাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে “ক্যাপিটাল ইনজেকশন”র মতো প্রথা দীর্ঘদিন দেশে প্রচলিত ছিল। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংককে আমরা উৎসাহিত করছি তারা যেন নিজেদের ব্যবসায় মডেল নতুন করে সাজিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে। যার ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ক্রমেই আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকাংশ সরকারি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি কমে এসেছে কারণ তারা সরকারের পক্ষ থেকে “ক্যাপিটাল ইনজেকশন”র সুবিধা চেয়ে না পাওয়ায় লাভের টাকা থেকে লভ্যাংশ না দিয়ে মূলধন হিসাবে সংরক্ষণ করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ১৭ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা, তিন মাস পর যা কমে ৮ হাজার ১৩৪ কোটি টাকায় নেমে আসে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে সরকারি খাতের ব্যাংকে মুনাফা অর্জিত না হলেও তাদের অর্থযোগান দিতে হয়নি।

তিনি আরও জানান, ব্যাংকখাত থেকে বিগত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে কর্পোরেট কর আদায় হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা । এছাড়া আর্থিক ক্ষেত্রে যে সকল আইনি সংস্কারের উদ্যোগের কথা বলেছি, সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ব্যাংক খাতের ভিত্তি আরও মজবুত ও সুদৃঢ় হবে।

আরো পড়ুন