প্রেমিকার সংঙ্গে না দেখা করে দেশে ফিরবেন না তামিলনাড়ুর সেই যুবক প্রেমকান্ত

প্রেমিকার সংঙ্গে না দেখা করে দেশে ফিরবেন না তামিলনাড়ুর যুবক প্রেমকান্ত। দেশে না ফিরে এখানে-সেখানে ঘুরছেন ওই তরুণীকে নিজের করে পেতে। তিনি জানান, ২৪ জুলাই বাংলাদেশে আসি কেবল আমার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করার জন্য। এরপর তিনবার আমাদের দেখা হয়। কিন্তু তারপর থেকেই সে আমাকে এড়িয়ে যেতে শুরু করে। কিন্তু কি কারণে তা আমি জানি না। বিষয়টি বিস্ময়কর। আমি আমার প্রেমিকা ও তার বাবা-মার সঙ্গে দেখা না করে বাংলাদেশ থেকে যাব না।

তিনি আরও বলেন, ৩ বছরের সম্পর্ক কোনো ছেলে খেলা না। কেবল তার কথা ভেবেই আমি এদেশে এসেছি। তাকে ছাড়া আমার ভারতে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। আমার একমাত্র লক্ষ্যই হলো তার সঙ্গে দেখা করা। তার সঙ্গে যেকোনো উপায়েই দেখা করতে চাই আমি। আমি এখানে এসেছিই তার সঙ্গে দেখা করতে। আমি তাকে বিয়ের জন্য জোর করছি না। তার সঙ্গে দেখা না করে আমি ভারতে ফিরব না। আমাকে নির্মমভাবে মারা হয়েছে তারপরও আমি পিছু হটব না।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে নাচ দেখে ভারতের দক্ষিণে অবস্থিত তামিলনাড়ুর যুবকের প্রেমে পড়েন বাংলাদেশের বরগুনার তালতলী উপজেলার তরুণী। ওই যুবকের সঙ্গে শুধু তরুণীর প্রেমই নয়, সুসম্পর্ক হয় দুই পরিবারের মাঝেও। আর তাই ভিডিও কলে নয় মনস্থির করেন ভালোবাসার মানুষটিকে সরাসরি একনজর দেখবেন।

গত ২৪ জুলাই শুধু একটি বার দেখা করার জন্য বরিশাল ছুটে আসেন প্রেমকান্ত নামে ওই যুবক। তিনি নেটওয়ার্কিং ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছেন।

জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাচ দেখে ওই যুবকের প্রেমে পড়েন বাংলাদেশের বরগুনার তালতলী উপজেলার তরুণী। আর প্রেমকান্তের ভিডিওতে প্রতিনিয়ত লাইক কমেন্টেও করতেন সেই তরুণী। একপর্যায়ে ২০১৯ সালে ফেসবুকের মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পরিচয় ও ভাবের আদান-প্রদান শুরু হয় একে অপরের মধ্যে। টানা তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্কও এগিয়েও চলে তাদের।

সম্প্রতি একনজর ওই তরুণীকে দেখার জন্য তামিলনাড়ু থেকে বাংলাদেশের বরিশাল শহরে আসে ওই যুবক। বরিশালের একটি কলেজে ওই তরুণী পড়াশোনা করেন। বরিশালে আসার পর একটি রেস্টুরেন্টে দু’জনের দেখাও হয়। কিন্তু ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা হওয়ার একদিন পর প্রেমকান্ত জানতে পারেন তার অজান্তেই চয়ন হালদার নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক আছে তার প্রেমিকার। আর এরপরই হঠাৎ প্রেমিকা ও তার পরিবার বন্ধ করে দেয় যোগাযোগ। শেষমেশ প্রেমিকার নতুন প্রেমিকের হাতে মারও খায় প্রেমকান্ত।

বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমলেশ চন্দ্র হালদার গণমাধ্যমকে জানান, ওই যুবক বৈধভাবে বাংলাদেশে আসে। তাকে নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় আনা হলে তিনি পুরো ঘটনা খুলে বলেন। পরে ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই যুবককে ঢাকার গাড়িতে তুলে দেয়া হয়। তিনি সেখান থেকে নিজ দায়িত্বে বিমানযোগে ভারতে চলে যাওয়ার কথা।

আরো পড়ুন