স্বেচ্ছায় মামলা তুলে নিলেন বাদী, খুশি ফুটবলার আঁখির পরিবার

সাফ গেমসে চ্যাম্পিয়ন নারী ফুটবল দলের ডিফেন্ডার আঁখি খাতুনের নামে আদালতে দায়েরকৃত মামলা স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করে নিয়েছেন মামলার বাদী মকরম প্রামানিক।

সোমবার দুপুরে মামলার বাদী মকরম প্রামানিক সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

এদিন বিকেলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাদীপক্ষ মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। যার ফলে এ মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। বর্তমানে ফুটবলার আঁখিকে দেওয়া জমিটি সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, ডিফেন্ডার আঁখির জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতাংশ জমির একটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ৪ জুন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার জমির দলিল হস্তান্তর করেন। সম্প্রতি মকরম প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তি ওই জমি তাদের দখলে রয়েছে দাবি করে মামলা দায়ের করে। তবে মামলার তফসিলে তিনি খতিয়ান উল্লেখ বা জমিটির মালিকানা দাবি করেননি। আজ দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বাদী নিজেই মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করলে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে আঁখির বাবা আক্তার হোসেন বলেন, মামলাটি প্রত্যাহার হওয়ায় আঁখি ও আমরা সবাই খুশি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে বিদেশ সফরে রয়েছে। তিনি সেখান থেকেই আঁখির খোঁজ খবর নিয়েছে। ফিরে আসার পর তিনি আঁখিকে বাড়ি করে দিবেন বলে ঘোষণা দিয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।

প্রসঙ্গত, ফুটবলে অবদান এবং দরিদ্র পরিবারের কথা বিবেচনা করে তিন বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শনায় আঁখিকে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই জমির মালিকানা দাবি করে শাহজাদপুরের একজন ব্যবসায়ী মামলা দায়ের করে। জমি নিয়ে সমস্যার কথা আঁখি বাফুফে সভাপতিকে জানালে তারা সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন ওই জমির বরাদ্দ বাতিল করে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ৮ শতাংশ জমি আঁখির নামে বরাদ্দ দেয়। গত ৪ জুন এই জমির দলিল আঁখির পরিবারে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে সম্প্রতি আঁখি খাতুনকে বরাদ্দ দেওয়া সেই জমির দখল নিয়ে মকরম প্রামানিক আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় আঁখিসহ পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়।

আরো পড়ুন