মেসির জোড়া গোলে জ্যামাইকাকে হারিয়ে ব্রাজিলের পাশে আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলের সেরা তারকা মেসিকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি স্কালোনি। তাই তো তাকে প্রথমার্ধে মাঠে নামাননি তিনি। বেঞ্চকে পরীক্ষা করতে মাঠে নামিয়েছিলেন নতুন সেনসেশন জুলিয়ান আলভারেজকে। তার প্রতিদান অবশ্য দিয়েছেন আলভারেজ। কিন্তু বিরতির পর মাঠে নেমে সব আলো কেড়ে নেন মেসি। তার জোড়া গোলে জ্যামাইকাকে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির রেড বুল অ্যারেনায় বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় ম্যাচটি শুরু হয়। সেখানে লিওনেল মেসির জোড়া গোলে জ্যামাইকাকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা। দলের অন্য গোলটি করেন জুলিয়ান আলভারেজ।

জোড়া গোলের মধ্যদিয়ে দেশের হয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের গোল হলো ৯০টি। মোখতার দাহারিকে (৮৯) ছাড়িয়ে গেলেন মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার চেয়ে বেশি গোল আছে কেবল এখন আলি দাইয়ি (১০৯) ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর (১১৭)।

হন্ডুরাসকে হারানো ম্যাচে স্কোয়াডে ৮ পরিবর্তন এনে দল সাজান লিওনেল স্কালোনি। তবে এ পরিবর্তনের প্রভাব ম্যাচে দেখা যায়নি। বরাবরের মতোই বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল স্কালোনির শিষ্যরা। জমাট রক্ষণের জন্য সেভাবে কোনো পরীক্ষাই দিতে হয়নি পোস্টের নিচে ফেরা এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে।

ম্যাচে ১৩ মিনিটের সময় গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন চলতি মৌসুমে ম্যানসিটিতে যোগ দেয়া জুলিয়ান আলভারেজ। লাউতারো মার্টিনেজের স্কয়ার ধরে সেখান থেকে গোল আদায় করে নেন আলভারেজ। সাত মিনিট পর দলকে লিড এনে দেয়ার সুযোগ আসে আলভারেজের সামনে। এবার দূরের পোস্টে শট লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন ম্যানসিটির এই স্ট্রাইকার।

প্রথমার্ধে ৬২ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে আর্জেন্টিনা গোলমুখে শট নেয় ৯টি। যার ৩টি ছিল লক্ষ্যে। জ্যামাইকা সেভাবে গোলের জন্য কোনো শট নিতে পারেনি। ১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় দু’দল।

বিরতি থেকে ফিরে শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ আসে আলবারেজ-মার্টিনেজদের সামনে। তবে ডি বক্স থেকে দূরের পোস্টে আড়াআড়ি শট লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন মার্টিনেজ। ৫৫তম মিনিটে তার বদলেই মাঠে নামেন মেসি।

মাঠে নেমেই ৬৮তম মিনিটে দলকে এগিয়ে নেয়ার সুযোগ পান মেসি। কিন্তু দুরূহ কোণ থেকে তার নেয়া শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান জ্যামাইকা গোলরক্ষক। পরের মিনিটে একটুর জন্য আলভারেসের থ্রু বলের নাগাল পাননি মেসি।

তবে ৮৫তম মিনিটে মেসির উঁচু করে বাড়ানো বলে ঠিক মতো শট নিতে পারেননি তাগলিয়াফিকো। পরের মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন মেসি।

ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে দারুণ ফ্রি-কিকে আবার জালে বল পাঠান আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। জ্যামাইকানদের চমকে দিয়ে গড়ানো শট নেন তিনি ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি গোলরক্ষক।

ম্যাচে হ্যাটট্রিকের কাছাকাছি ছিলেন মেসি। তবে মেসি মাঠে নামার পর তৃতীয়বারের মতো এক ভক্ত ঢুকে যাওয়ায় সেই আক্রমণ আর শেষ করার সুযোগ পাননি আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এই জয়ে কাতার বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার অপরাজেয় থাকার পথচলা দাঁড়াল রেকর্ড ৩৫ ম্যাচে। এতে করে সর্বকালের রেকর্ডে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে যাবে আর্জেন্টিনা। ১৯৯৩-৯৬ সময়ে টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার আগের কীর্তিটি গড়েছিল ব্রাজিল।

তবে বিশ্বরেকর্ড থেকে আরও দুই ম্যাচ পেছনে আছে মেসির দল। টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে এই রেকর্ডটা গড়েছিল কোচ রবার্তো মানচিনির ইতালি। সেটা ছুঁতে হলে অন্তত বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে অপরাজিত থাকতে হবে মেসিদের।

আরো পড়ুন