পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা ইংল্যান্ডের

মেলবোর্নে ৯২’র ইতিহাস ফিরিয়ে আনার সুযোগ ছিল বাবরের সামনে। কিন্তু তা আর হতে দিলেন না বাটলাররা। বরং পূর্বসূরিদের হারের সেই বদলা নিলো তাদের অনুজরা। ইংলিশদের জয়ের কাজটুকু আগেই সহজ করে দিয়েছিলেন রশিদ, কারানরা। ব্যাট হাতে বাকি কাজটুকু সারেন বাটলার, স্টোকস, মঈন আলিরা। শিরোপা জয়ে বল হাতে নেতৃত্ব দেন স্যাম কারান। আর ব্যাট হাতে ত্রাতা হয়েছিলেন বেন স্টোকস।

রোববার (১৩ নভেম্বর) মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় ম্যাচটি শুরু হয়। টস হেরে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান ৮ উইকেটে ১৩৭ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ইংল্যান্ড ৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে ১৩৮ রান করে ম্যাচে জয় তুলে নেয়। সেই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে দুইবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলে ইংলিশরা।

পাকিস্তানের দেয়া টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৭ রানেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে ভারতীয় বোলারদের পাড়া মহল্লার বোলার বানিয়ে ফেলা ব্যাটার অ্যালেক্স হেলসকে দুর্দান্ত বোল্ড করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। দলীয় ৩২ রানে ফিল সল্টকে ইফতিখারের ক্যাচ বানিয়ে ইংলিশ শিবিরে দ্বিতীয় ধাক্কা দেন হারিস রউফ। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক বাটলার অলরাউন্ডার বেন স্টোকসকে নিয়ে ১৩ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ৪৫ রানে বাটলারকে উইকেটের পেছনে রিজওয়ানের ক্যাচ বানিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান হারিস রউফ।

চতুর্থ উইকেটে হ্যারি ব্রুককে সঙ্গে নিয়ে স্টোকস গড়েন ৩৯ রানের জুটি। দলীয় ৮৪ রানে ব্রুককে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরান শাদাব খান। কিন্তু মঈন আলির ক্যাচ ধরতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েন পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি। এরপর মঈন আলি নামলেও পাক বোলাররা আস্তে আস্তে খেলা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়া শুরু করে। এক পর্যায়ে বল থেকে ১৫ রান বেশি হয়ে পড়ে বিপাকে পড়ে যায় ইংলিশরা। কিন্তু মঈনকে নিয়ে স্টোকস দলকে শিরোপার রেসে রাখেন।

১৬তম ওভারের প্রথম বল করে পায়ের ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়েন শাহিন আফ্রিদি। তার বাকি ৫ বলে করতে আসেন ইফতিখার। সেই ওভারেই ম্যাচ বের করে নেন স্টোকস ও মঈন আলি। ইফতিখারের করা ৫ ভল তেকে ১৩ রান নিয়ে ম্যাচ নিজেদের মুঠে নিয়ে নেনি মঈন-স্টোকস জুটি।

জয় থেকে ৬ রান দূরে থাকতে মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন মঈন আলী। শেষ পর্যন্ত ১৯তম ওভারের শেষ বলে এক রান নিয়ে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন বেন স্টোকস। স্টোকস ৪৯ বলে ১ ছয় ও ৫ চারে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচে দুর্দান্ত বল করা ইংলিশ বোলার স্যাম কারান প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ও পুরো বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলায় প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরস্কার জিতেন স্যাম কারান।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ারপ্লের সুবিধা নিতে ব্যর্থ হয় পাকিস্তান। তাই রান বাড়াতে ইংলিশ বোলারদের ওপর আগ্রাসী হয়ে উঠেছিলেন দুই ওপেনার। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ওকসকে ছক্কা মারেন রিজওয়ান। পরের ওভারে তাকে ফেরত পাঠান কুরান। কারানের ওয়াইড লাইনের বল তার ব্যাটে লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। ১৪ বলে ১ ছয়ে ১৫ রান করে আউট হন রিজওয়ান। তখন পাকিস্তানের দলীয় রান মাত্র ২৯।

দলীয় ৪৫ রানে ১২ বল খেলে ৮ রান করে বিদায় নেন মোহাম্মদ হারিস। আদিল রশিদের বলে স্টোকসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তৃতীয় উইকেটে বাবর ও শান মাসুদ ইনিংস মেরামতের চেষ্টা চালান। কিন্তু দলীয় ৮৪ রানে বাবর আদিল রশিদের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। বাবরের বিদায়ের পর রানের খাতা খোলার আগেই ইফতিখারকে বিদায় করেন স্টোকস। ইফতিখার ৬ বল থেকে ০ রান করেন।

পঞ্চম উইকেটে শান মাসুদ ও শাদাব খান স্কোরবোর্ড সচল রাখার চেষ্টা চালান। দলীয় ১২১ রানে ২৮ বলে ৩৮ রান করা শান মাসুদকে আউট করে ৩৬ রানের জুটি ভাঙেন কুরান। শানের বিদায়ের ২ রান পর শাদাবকে নিজের শিকার বানান ক্রিস জর্ডান। তখন দলীয় রান ১২৩। মোহাম্মদ নওয়াজও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। ৭ বলে ৫ রান করে দলীয় ১২৯ করে কুরানের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন নওয়াজ। বিশ্বকাপে ১৩ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিতে পরিণত হন কারান। দলীয় ১৩১ রানে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে বিদায় করে ম্যাচে দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন জর্ডান। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৭ রান সংগ্রহ করে। জিততে হলে ইংল্যান্ডকে করতে হবে ১৩৮ রান।

ইংল্যান্ডের হয়ে স্যাম কারান ৩টি, ক্রিস জর্ডান ও আদিল রশিদ ২টি এবং বেন স্টোকস একটি উইকেট লাভ করেন।

আরো পড়ুন