নিজেকে ধিক্কার জানাচ্ছেন তসলিমা নাসরিন

লেখিকা তসলিমা নাসরিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তার গত কয়েকদিনের ফেসবুক পোস্ট সেটাই স্পষ্ট করে। এ কারণে নিজেকেই ধিক্কার জানাচ্ছেন তসলিমা।

তিনি বাড়িতে ওভারসাইজ পাজামা পরেছিলেন। সে সময়ই হঠাৎ পড়ে যান। ব্যথা অনুভব করায় হাসপাতালে ছুটে যান। এরপর সেখানে অপারেশন করা হয় তার

হাসপাতালে লেখিকাকে চিকিৎসার জন্য দুটো অপশন দেয়া হয়। একটি ইন্টারনাল ফিক্সেশন, অন্যটি হিপ রিপ্লেসমেন্ট। তসলিমা প্রথমটির কথা বললেও তাকে হিপ রিপ্লেসমেন্টের কথা বলেন চিকিৎসকরা। পরে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে ফিক্সেশনের কথা হলেও এক পর্যায়ে অনেকটা বাধ্য করিয়ে লেখিকাকে রাজি করিয়ে হিপ রিপ্লেসমেন্ট করানো হয় বলে দাবি তসলিমার।

আলোচিত লেখিকার ভাষ্যমতে, যারা প্রায় একেবারেই অথর্ব, তাদের এই হিপ রিপ্লেসমেন্ট করা হয়। শরীরচর্চা করা একজন সচল মানুষ তিনি, তাকে কেন এভাবে চিরতরে পঙ্গু বানিয়ে দেয়া হলো? অভিযোগ, প্রাইভেট হাসপাতালে টার্গেট মার্কেটের শিকার হয়েছেন তিনি।

এদিকে এ ঘটনায় নিজেকে ধিক্কার জানিয়েছেন তসলিমা। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ধিক্কার দিচ্ছি নিজেকে। ধিক্কার দিচ্ছি এতকালের আমার মেডিকেল জ্ঞানকে। আমাকে হাসপাতালে মিথ্যা কথা বলা হয়েছিল যে, আমার হিপ বোন ভেঙেছে। আমার জীবনে কোনো জয়েন্ট পেইন ছিল না, জয়েন্ট ডিজিজ ছিল না।’

তিনি লেখেন, ‘আমাকে মিথ্যা কথা বলে, ফিমার ফ্র্যাকচারের ট্রিটমেন্টের নামে আমার হিপ জয়েন্ট কেটে, ফিমার কেটে ফেলে দিয়ে আমাকে সারা জীবনের জন্য পঙ্গু বানিয়ে দেয়া হয়েছে।’

‘ধিক্কার দিচ্ছি আমি কেন ক্রিমিনাল টিমের ট্র্যাপে পড়লাম। আজ আমি এক্সরে রিপোর্ট দেখলাম আমার। আমার কোথাও কোনো ফ্র্যাকচার হয়নি সেদিন। ফ্র্যাকচার হয়নি বলে আমার হিপ জয়েন্টে কোনো ব্যথা ছিল না, কোনো সুয়েলিং ছিল না’ বলেও যোগ করেন এই লেখিকা।

সবশেষ তিনি লেখেন, ‘আমাকে বাংলাদেশি মুসলিম রোগী হিসেবে দেখা হয়েছে। যার কাছ থেকে প্রচুর টাকা নিয়ে অপারেশন করা হবে। সেই নিরীহ রোগী দেশে ফিরে যাবে এবং ভেবে সুখ পাবে যে, তার ট্রিটমেন্ট হয়েছে।’

আরো পড়ুন