আ.লীগ নেতা গোলাম মর্তুজার কাঁটাতারের বেড়ায় অবরুদ্ধ ৪০ ভূমিহীন পরিবার

অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ডেস্ক

সৃষ্টিবার্তা ডটকম

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের খোর্দ্দ বিছনদই গ্রামে এক আওয়ামী লীগ নেতার দেয়া কাঁটাতারের বেড়ায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে তিস্তা নদী ভাঙনের শিকার ৪০ ভূমিহীন পরিবার। এতে ভূমিহীন ৪০ পরিবারসহ ওই গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের সড়কে যাতায়াত বন্ধ হয়েছে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা নদীগর্ভে বসতবাড়ি হরিয়ে ওই পরিবারগুলো জেলা পরিষদের পরিত্যক্ত সড়কে আশ্রয় নিয়েছেন। তারা ৩/৪ যুগ ধরে এখানে বসবাস করছেন। তাদের কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশা-ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। তারা দিন আনে দিন খান। এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র তাদের উচ্ছেদ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। সড়কটি পাকাকরণের বরাদ্দ এসেছে। ইতোমধ্যে সড়কটি পাকাকরণে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন ফলক উন্মোচন করেছেন। এরই মধ্যে প্রভাবশালী চক্রটি চলাচলের অতি পুরাতন হেরিংবন্ড সড়কটির অর্ধেকাংশ দখল করে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে।

 

ভূমিহীন পরিবারগুলোর দাবি, তাদেরকে উচ্ছেদ করার জন্যই একের পর এক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। মেয়েরা স্কুলে যাওয়ার পথে বখাটে দিয়ে উত্ত্যক্ত করা হয়। ভোটমারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মর্তুজা হানিফ জেলা পরিষদের পরিত্যাক্ত এ সড়কটি নিজের জমি বলে দখল করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছেন। যে কারণে কাঁটাতারের বেড়ায় তারা অবরুদ্ধ। এখানে বসবাসকারী ৪০টি পরিবারের মধ্যে ১২টি সংখ্যালঘু ও দুটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার রয়েছে।

ভুক্তভোগী ভূমিহীন নরেশ চন্দ্র বলেন, ‘বাড়ি থেকে বের হওয়া যায় না, কাঁটাতারের বেড়ায় অবরুদ্ধ হামরা। সরকারি জমি দখল করে কাঁটাতারের বেড়া দিছে চেয়ারম্যান সাব। হামার রাস্তা বন্ধ করছে।’

অক্কাস আলী বলেন, ‘৪০ বছর ধরি সড়োকত বাড়ি করে আছি। এলা হামারগুলাক তুলবার চায়। হামরা কোনটে যাইমো?’

 

৪০ বছর বয়সী জমিলা বেওয়া বলেন, হামরা নদী ভাঙ্গা মানুষ, অন্য কোনো জায়গা নাই হামার।’

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম মর্তুজা হানিফ বলেন, ওই জমি জেলা পরিষদের না, আমার। আমার জমিতে আমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছি।

ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম সায়েদ বলেন, ওই স্থান দিয়ে দ্রুত সড়ক নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়ে গেছে। ভূমিহীন পরিবারগুলো অন্য স্থানে সরে গেলে রাস্তার কাজ শুরু করা হবে। তা না হলে সরকারি অর্থ সরকারের ঘরে চলে যাবে।

 

লালমনিরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান বলেন, জেলা পরিষদের পরিত্যাক্ত সড়কে নদী ভাঙনের শিকার অসহায় পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে। তারা ৪০ বছর থেকে ৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসছে। এ অবস্থায় তাদেরকে জেলা পরিষদ থেকে উচ্ছেদ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

এদিকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে কাউকে অবরুদ্ধ করে রাখা উচিত হয়নি। ওই জায়গায় পুনরায় সার্ভেয়ার দিয়ে মেপে সীমানা নির্ধারণ করা হবে। তার আগে কাঁটাতারের বেড়াটি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। #সূত্র: জাগো নিউজ