করোনার ভয়ে ফেইসবুক মেসেঞ্জারে ভিডিও কলে বৈশাখী শুভেচ্ছা বিনিময়

অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ডেস্ক

সৃষ্টিবার্তা ডটকম

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২০

নিজস্ব প্রতিনিধি: নভেল করোনা ভাইরাস (কভিট-১৯) এর সংক্রমণ ও ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও স্মার্ট মোবাইলের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ-১৪২৭ এর প্রথম দিনে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ শুভাকাঙ্খীদের সাথে বৈশাখী শুভেচ্ছা বিনিময় করার হিড়িক পড়েগেছে।

১৩ এপ্রিল সোমবার রাত বারোটার পর থেকেই ফেইসবুক মেসেঞ্জারে ভিডিও কলে বৈশাখী শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু হয়। আর এ শুভেচ্ছা বিনিময় চলে ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার দিনব্যাপী। ফেইসবুক মেসেঞ্জারে ভিডিও কলে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ শুভাকাঙ্খীদের সাথে বৈশাখী শুভেচ্ছা বিনিময়কারী তরুণ ছাত্রলীগ নেতা রাব্বিনুর রহমান জুয়েলসহ অনেকের নিজ নিজ ফেইসবুক টাইম লাইনে আপলোড দেওয়া মেসেঞ্জারে ভিডিও কলের রেকর্ড থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

এবিষয়ে রাব্বিনুর রহমান জুয়েল জানান, করোনা ভাইরাস বিশ্বের অনেক দেশে মহামারির আকার ধারন করেছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব শুরু হওয়ায় গণপ্রজান্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা-উপজেলা প্রশাসনসহ জননিরাপত্তা রক্ষাকারী বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থা মানুষদেরকে ঘরে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাই সে ঘরের বাহিরে না গিয়ে নিজে সুরক্ষায় থেকে মেসেঞ্জারে ভিডিও কলের মাধ্যমে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ শুভাকাঙ্খীদের সাথে বৈশাখী শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। কেউ কেউ মেসেঞ্জারে পারিবারিক গ্রুপ খোলে সেকানে ভিডিও কল দিয়ে একসঙ্গে অনেকে একে অপরকে দেখা কথা বলছেন।

জুয়েল, সাকিল মোরাদ, নূর হোসাইন, ফজলে রাব্বী রাজন, স্বপন আহদেমসহ ফেইসবুক ব্যহারকারী অনেকে জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে জনগনকে সুরক্ষা করতে সরকার দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ চিন্তা করেই অযথা ঘরের বাহিরে বের হতে সকলকে নিষেধ করেছেন। যারা নিষেধ মানছেন না, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অর্থদন্ড করাসহ বিভিন্ন শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাই ঘরের বাহিরে বের হয়ে বা আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্খীদের বাড়িতে না গিয়ে মেসেঞ্জারে ভিডিও কলের মাধ্যমে বৈশাখী শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন তারা।

ঘরে বসে থাকা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে নকলা শহরের অনেকে জানান, স্বেচ্ছায় বা সরকারের কথা রাখতে গিয়ে বা যে কোন কারনেই হউক না কেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ আজ ঘরে শুয়ে বসে থেকে দিনাতিপাত করছেন।

বিশেষ করে অনেকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও স্মার্ট মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে সময় কাটাচ্ছেন। তাই দেশের চলমান এ ক্রান্তিকালে ইন্টারনেট ডেটার (প্যাকেজের) দাম কমানোসহ প্রতিটি প্যাকেজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা উচিত বলে অনেকে মনে করছেন। বাংলার কর্মঠ মানুষগুলো হঠাৎ করে ঘরে বসে থাকতে তাদের একঘেয়েমী চলে আসে।

এ একঘেয়েমী দূর করার জন্য হলেও শিক্ষিত প্রায় সকলেই ইন্টারনেটের ধারস্থ হচ্ছেন। ফলে শিক্ষিত প্রতিটি পরিবারে আগের চেয়ে ইন্টারনেট বাবদ খরচ বেড়েছে। এ বিষয়ের দিকে সরকারের নিতীনির্ধারকদের সুদৃষ্টি কামনা করছেন সূধীজন।

উল্লেখ্য, নভেল করোনা ভাইরাস (কভিট-১৯) এর ক্ষতিকর প্রভাবে বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র আজ নাজেহাল অবস্থা অতিক্রম করছে। এ ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাংলাদেশ রক্ষা পাচ্ছেনা।

।মঙ্গলবারের তথ্য মতে এ পর্যন্ত এদেশে এক হাজার ১২ জন মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, এরমধ্যে ৪৬ জন মারা গেছেন। দিন দিন নভেল করোনা ভাইরাস (কভিট-১৯) এর সংক্রমণের পরিমাণ ও মৃত্যুর সংখ্যা এদেশে বেড়েই চলছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার জনগনকে সচেতন করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। এরমধ্যে অতিগুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হলো অযথা ঘরের বাহিরে বের না হওয়া। তাই সচেতনরা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছেন।

।আর যে বা যারা অযথা বাহিরে ঘুরাঘুরি করার জন্য বাসা-বাড়ির বাহিরে বের হচ্ছেন, তাদেরকে জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশসহ নিরাপত্তা রক্ষাকারী বিভিন্ন বিভাগ বা সংস্থা চাপ প্রয়োগ করে জনগনকে ঘরের ভিতরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।