১ মার্চের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল খোলার দাবি ইবি শিক্ষার্থীদের।

ইবি প্রতিনিধিঃ শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আগামী ১লা মার্চের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল খুলে স্থগিত সকল পরীক্ষা পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়না চত্বর সংলগ্ন আম বাগানে এক সংবাদ সম্মেলনে জিকে সাদিক শিক্ষার্থীদের পক্ষে এই দাবিগুলো উপস্থাপন করেন।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার পর গত ২২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৯তম একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় স্নাতক চুড়ান্ত ও স্নাতকোত্তর শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা গ্রহণের সিন্ধান্ত নেয়া হয়। এমন সিদ্ধান্তের পর অধিকাংশ বিভাগের পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী এলাকায় এবং কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহে অবস্থান করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। কিছু পরীক্ষা গ্রহণের পর হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিত হয়। এর প্রেক্ষিতে দুই দফা দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ৫ দিনের আল্টিমেটাম দেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। প্রথম দফা, স্থগিতকৃত সকল পরীক্ষা পুনরায় চালু করতে হবে। দ্বিতীয় দফা, আগামী ১ মার্চের পূর্বে হল ও ক্যাম্পাস যদি না খুলে দেওয়া হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা ১ তারিখে হলে ঢুকতে বাধ্য হবে।

পরে হল খুলে দিতে ও পরীক্ষা চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন তাঁরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচী পালন করে। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালামের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবির কথা জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম জানান, এটি একটি জাতীয় ইস্যু, আমি ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের এই দাবির সাথে একমত। আমিও চাই শিক্ষার্থীরা তাদের পরীক্ষা দিক এবং ক্লাস রুমে ফিরে আসুক। কিন্তু আমাকে সরকার এখানে নিয়োগ দিয়েছে, এ জন্য সরকারের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে আমি একা কিছু করতে পারিনা।

তিনি বলেন, সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা অবশ্যই ভেবে-চিন্তে বৃহৎ স্বার্থে নিয়েছেন। সুতরাং আমরা সেটার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। তারপরেও যদি চলমান পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন তাহলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে সেটা শিক্ষার্থীদের সাথে সমন্বয় করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *