আন্তর্জাতিক ট্রফি যে কতো গুরুত্বপূর্ণ আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসির চেয়ে বেশি আর কে বুঝে! ফুটবলের কতোশত রেকর্ড গড়ে ফেললেন অথচ তাকে সর্বকালের সেরা বলতে দ্বিধা কেবল এই এক অভাবের কারণে। একটা আন্তর্জাতিক ট্রফি যে নেই তার! বিশ্বকাপের হাতছোঁয়া দূরত্ব থেকে বিদায় নেয়ার পোড়া তিনি জানেন।
এদিক থেকে মহাভাগ্যবান ফ্রান্সের তরুণ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বয়স যখন মাত্র ১৯, তখনই জিতেছেন ফুটবল বিশ্বকাপ। আরো একটা মহামূল্যবান ট্রফির সামনে দাঁড়িয়ে এই ফরাসী তারকা। এবার ইউরোপ সেরা হওয়ার সুযোগ তার সামনে।
বয়সে ছোট এমবাপ্পের অবদানটা বড়। দলকে ফাইনালে তুলতে এই আসরেই এখন পর্যন্ত করেছেন ৭ গোল। গেল ম্যাচে গোল না পেলেও গোলমুখে বল যোগান দিয়ে খেলেছেন অলআউট ফুটবল। ৪ বছরের আন্তর্জাতিক ফুটবলে বিশ্বকাপ জয়ের পর আবারো বড় মঞ্চে স্বপন পূরণ করতে চান ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের আগে গণমাধ্যমে এমবাপ্পে বলেন, আমি সবসময়ই বলেছি আমি আমার দেশের ক্লাবের হয়ে কিছু করতে চাই। যে কারণে আমি অন্য কোনো ক্লাবের হয়ে খেলতে যাইনি। ২০১৭ সালে আমি যখন ক্লাবে আসি তখন কিছুটা হতাশাগ্রস্ত ছিলাম। কারণ আমাদের কোনো বড় বৈশ্বিক ট্রফি ছিল না। অবশেষে সেই সুযোগ এসেছে আমাদের সামনে।
জার্মান গোলপোস্টের প্রহরী ম্যানুয়েল নয়্যার এমবাপ্পের প্রিয় খেলোয়াড়। জানালেন তার বিপক্ষে খেলার অনুভূতি।
তিনি বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন নয়্যারের বিপক্ষে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। তার বড় ভক্ত আমি। আজ সে আমার প্রতিপক্ষ। আমি সবসময় সেরা কারো সঙ্গে খেলেই জিততে চেয়েছি। সেই সুযোগ আমার সামনে। ভাবতেই রোমাঞ্চিত হচ্ছি।
বায়ার্ন খেলে আক্রমণাত্মক ফুটবল। তাদের হারানোটা কঠিন জানেন এমবাপ্পে। তবুও চাপ সামলে খেলার চ্যালেঞ্জ নিলেন।
তিনি বলেন, বায়ার্ন সেরা দল। আমি মনে করি এটাই তাদের দুর্বলতা। তাদের কৌশল দুর্দান্ত। প্রত্যাশা অনেক। এটা চাপ হিসেবে না নিয়ে উপভোগ করতে হবে। প্রথম বারের মত ফাইনাল জয়ের অপেক্ষায় প্যারিসবাসী।
অভিজ্ঞদের দম্ভচূর্ণ করে নতুনের জয়গান? বিশ্ব ফুটবলে এমবাপ্পেদের মহাতারকা হিসেবে উত্থানের প্লট? অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক মুহূর্তের।